একা বাসায় অবাদ যৌ,ন লীলা Part 2

 একা বাসায় অবাদ যৌ,ন লীলা Part 2 👇 নিচের 3

টা ডাউনলোড বাটনের মধ্যে একটাতে Google Drive link আছে একটা একটা করে চেক করুন

 👇👇 of the 3 download buttons below has a Google Drive link, check one by one👇


একটিতে  Google Drive লি% আছে, একটি একটি করে

 চেক করে দেখুন...!!👇👇


একটিতে  Google Drive লি% আছে, একটি একটি করে

 চেক করে দেখুন...!!👇👇


একটিতে  Google Drive লি% আছে, একটি একটি করে

 চেক করে দেখুন...!!👇👇





 

জাদুকরী কমিক বুক: আয়ানের স্বপ্নের ক্যানভাস

অধ্যায় ১: নীলক্ষেতের গোলকধাঁধা এবং একটি স্বপ্ন

ঢাকা শহরের ব্যস্ততম এলাকা নীলক্ষেত। পুরনো বইয়ের গন্ধ, ধুলোমাখা মলাট, আর মানুষের কোলাহলে সবসময় মুখরিত থাকে জায়গাটি। আয়ান, পনেরো বছর বয়সী এক কিশোর, এই নীলক্ষেতের অলিগলিতে ঘুরতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। তার নেশা একটাই—কমিক বুক। মার্ভেল, ডিসি, ডাইনামাইট থেকে শুরু করে পুরনো দিনের টিনটিন বা অ্যাসটেরিক্স—সবই তার চাই।

আয়ানের ঘরটা দেখলে মনে হবে যেন কোনো কমিক মিউজিয়াম। দেয়ালজুড়ে স্পাইডারম্যান আর ব্যাটম্যানের পোস্টার। কিন্তু আয়ানের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন শুধু কমিক পড়া নয়, সে নিজে একজন কমিক বুক আর্টিস্ট হতে চায়। তার খাতার পেছনের পাতাগুলো সবসময় সুপারহিরোদের স্কেচে ভর্তি থাকে। কিন্তু তার এই স্বপ্ন নিয়ে তার বাবা-মায়ের ঘোর আপত্তি। তাদের সোজা কথা, "ছবি এঁকে জীবন চলে না। তোমাকে ভালো করে পড়াশোনা করে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে।"

বাবার বকুনি শুনে আয়ান মাঝে মাঝেই মন খারাপ করে খাতা-পেন্সিল বন্ধ করে রাখে। কিন্তু তার ভেতরের শিল্পী সত্তা তাকে সবসময় তাড়িয়ে বেড়ায়।

অধ্যায় ২: অন্ধকার দোকানের রহস্যময় বই

একদিন বিকেলে মন খারাপ করে নীলক্ষেতে হাঁটছিল আয়ান। সেদিন তার পকেট মানি জমানো কিছু টাকা ছিল। হাঁটতে হাঁটতে সে একদম শেষের দিকের একটা পুরনো, অন্ধকার গলিতে ঢুকে পড়ল। গলিটার শেষ মাথায় ছোট একটা দোকান, যার কোনো নামবোর্ড নেই। দোকানদার একজন বয়স্ক লোক, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, আপন মনে একটা পুরনো বইয়ে মলাট লাগাচ্ছেন।

দোকানের এক কোণায়, ধুলোয় ঢাকা একটা কাঠের বাক্সের ভেতর আয়ানের চোখ আটকে গেল। সে বাক্সটার ভেতর হাত দিয়ে একটা চামড়ায় মোড়ানো বই বের করে আনল। বইয়ের ওপরে কোনো নাম নেই, কোনো ছবি নেই। মলাট উল্টাতেই সে চমকে উঠল। এটা কোনো সাধারণ বই নয়, একটা কমিক বুক!

কিন্তু এর প্যানেলগুলো সাদাকালো। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, কমিকের প্রধান চরিত্রটি দেখতে হুবহু আয়ানের মতো! আয়ান চোখ রগড়ে আবার দেখল। হ্যাঁ, ছেলেটির অবয়ব, চুলের স্টাইল, এমনকি পরনের শার্টটাও আয়ানের মতোই।

"এই বইটার দাম কত চাচা?" আয়ান কাঁপা কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল।

দোকানদার চশমার ফাঁক দিয়ে আয়ানের দিকে তাকিয়ে একটু হাসলেন। "ওটা বিক্রির জন্য নয় খোকা। তবে তুমি চাইলে ওটা নিয়ে যেতে পারো। মনে হচ্ছে বইটা তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিল।"

আয়ান আর কোনো কথা না বলে বইটা বুকে জড়িয়ে সোজা বাসায় চলে এল।

অধ্যায় ৩: আয়নার ভেতরের গল্প

রাতের খাওয়া শেষ করে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে বসল আয়ান। টেবিল ল্যাম্পের আলোয় বইটা খুলল সে। প্রথম পাতায় দেখা যাচ্ছে, একটি ছেলে—যার চেহারা আয়ানের মতো—একটি ধূসর, নিষ্প্রাণ শহরে দাঁড়িয়ে আছে। শহরের সব মানুষ যন্ত্রের মতো কাজ করছে, কারও চোখে কোনো স্বপ্ন নেই, মুখে কোনো হাসি নেই।

ছেলেটির হাতে একটি জাদুকরী তুলি, যা দিয়ে সে শহরটাকে রঙিন করতে চায়। কিন্তু শহরের 'নিয়ন্ত্রক' নামের এক বিশাল ছায়ামূর্তি তাকে পদে পদে বাধা দেয়। নিয়ন্ত্রক চায় সবাই যেন একঘেয়ে নিয়ম মেনে চলে।

আয়ান অবাক হয়ে দেখল, কমিকের গল্পটা আসলে তার নিজেরই জীবনের প্রতিচ্ছবি। 'নিয়ন্ত্রক' যেন তার চারপাশের সেই সমাজ এবং পরিবারের প্রত্যাশা, যা তাকে তার স্বপ্ন পূরণ করতে বাধা দিচ্ছে। আর ওই জাদুকরী তুলি হলো তার প্রতিভা। পাতা উল্টাতে উল্টাতে আয়ান গল্পের গভীরে হারিয়ে গেল।

অধ্যায় ৪: সাদা পাতা এবং একটি সিদ্ধান্ত

পড়তে পড়তে আয়ান একদম শেষ পর্যায়ে চলে এল। ছেলেটি যখন তুলি হাতে 'নিয়ন্ত্রক'-এর মুখোমুখি দাঁড়াল, চূড়ান্ত লড়াইয়ের ঠিক আগ মুহূর্তে গল্পটা থেমে গেল।

পরের পাতাগুলো উল্টাতেই আয়ান স্তব্ধ হয়ে গেল। একদম সাদা পাতা! কোনো ছবি নেই, কোনো ডায়লগ নেই। আয়ানের মনে হলো কেউ যেন তাকে মাঝপথে এক গভীর সমুদ্রে ফেলে চলে গেছে। সে অস্থির হয়ে উঠল। এই গল্পের শেষ কী হবে? ছেলেটি কি পারবে তার স্বপ্নের রঙে শহরটিকে রাঙাতে? নাকি সেও বাকিদের মতো ধূসর হয়ে যাবে?

কয়েকদিন আয়ান ঠিকমতো ঘুমাতে পারল না। ক্লাসে বসেও তার মাথায় শুধু ওই সাদা পাতাগুলো ঘুরতে লাগল। একদিন রাতে সে তার ড্রয়ার থেকে পেন্সিল, মার্কার, কালি আর জলরং বের করল। সে গভীর শ্বাস নিয়ে সিদ্ধান্ত নিল, এই গল্পের শেষটা সে নিজেই আঁকবে। কারও জন্য সে অপেক্ষা করবে না।

অধ্যায় ৫: ক্যানভাসে রঙের বিস্ফোরণ

প্রথম দিকে হাত কাঁপছিল আয়ানের। সাদা পাতা যেন তাকে ভয় দেখাচ্ছিল। কিন্তু যখন সে পেন্সিল দিয়ে কাগজে প্রথম আঁচড় কাটল, তখন তার মনে হলো সে যেন অন্য এক জগতে প্রবেশ করেছে। তার ভেতরের জমানো সব কষ্ট, রাগ, আর স্বপ্নগুলো কালির আঁচড় হয়ে কাগজের ওপর ফুটে উঠতে লাগল।

সে আঁকল, কীভাবে ছেলেটি তার তুলির এক আঁচড়ে 'নিয়ন্ত্রক'-এর কালো ছায়াকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। কীভাবে তার তুলির ছোঁয়ায় ধূসর শহরের বিল্ডিংগুলো লাল, নীল, হলুদ রঙে সেজে ওঠে। সে আঁকল তার নিজের বিজয়ের গল্প। টানা তিন রাত জেগে আয়ান কমিকটা শেষ করল। শেষ পাতাটি আঁকা শেষ হওয়ার পর, অদ্ভুত একটা প্রশান্তি অনুভব করল সে। তার মনে হলো, তার ভেতরের সব ভয় আর দ্বিধা যেন কেটে গেছে। সে এখন আর কাউকে ভয় পায় না।

অধ্যায় ৬: স্বপ্নের স্বীকৃতি

পরদিন সকালে আয়ান এক অদ্ভুত সাহস নিয়ে ডাইনিং টেবিলে গেল। বাবা খবরের কাগজ পড়ছিলেন। আয়ান গিয়ে তার আঁকা কমিকের খাতাটা বাবার খবরের কাগজের ওপর রাখল।

বাবা প্রথমে একটু বিরক্ত হলেন। "সামনে তোমার প্রি-টেস্ট পরীক্ষা, আর তুমি এসব কী হাবিজাবি করছ?"

"বাবা, শুধু একবার দেখো," আয়ান শান্ত গলায় বলল।

বাবা অনিচ্ছা সত্ত্বেও পাতা উল্টাতে শুরু করলেন। কিন্তু কয়েক পাতা পড়ার পরই তার বিরক্তি অবাক দৃষ্টিতে পরিণত হলো। ছবির প্রতিটি আঁচড়ে, রঙের প্রতিটি ব্যবহারে আয়ানের যে অসীম প্রতিভা আর নিখাদ আবেগ লুকিয়ে ছিল, তা বাবার চোখ এড়াল না। তিনি অবাক হয়ে দেখলেন, তার ছেলে শুধু ছবি আঁকছে না, সে একটা গল্প বলছে। একটা বিশাল স্বপ্ন বুনছে।

মা-ও পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। তার চোখেও পানি চলে এল। আয়ানের বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বইটি বন্ধ করলেন। তারপর আয়ানের দিকে তাকিয়ে স্মিত হেসে বললেন, "আমি সত্যিই জানতাম না তুমি এত অসাধারণ আঁকতে পারো। তোমার এই প্রতিভাকে জোর করে আটকে রাখাটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হতো।"

অধ্যায় ৭: নতুন শুরু

সেই দিনটি ছিল আয়ানের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। তার বাবা-মা তাকে শুধু মেনেই নেননি, তাকে চারুকলা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার জন্য উৎসাহ দিতে শুরু করেন।

কয়েক মাস পর, আয়ান আবার নীলক্ষেতের সেই গলিতে গিয়েছিল। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, সেখানে কোনো পুরনো বইয়ের দোকান ছিল না। আশেপাশের দোকানদাররা জানাল, এখানে বহুদিন ধরে কোনো দোকানই নেই!

আয়ান বুঝতে পারল, ওই জাদুকরী কমিক বুকটা আসলে কোনো বাইরের জাদু ছিল না। ওটা ছিল আয়ানের নিজের ভেতরের লুকানো সাহসের একটা ক্যানভাস। আজ আয়ান দেশের অন্যতম সেরা একজন তরুণ কমিক বুক আর্টিস্ট। তার তৈরি চরিত্রগুলো আজ হাজারো কিশোরের অনুপ্রেরণা। কিন্তু তার বুকশেলফের সবচেয়ে দামি জায়গায় এখনও সযত্নে রাখা আছে সেই পুরনো, চামড়ায় মোড়ানো কমিক বুকটি—যেটি তাকে শিখিয়েছিল, নিজের গল্পের শেষটা সবসময় নিজেকেই আঁকতে হয়।

আশা করি এই গল্পটি আপনার ভালো লেগেছে! আপনি কি চান আমি সায়েন্স ফিকশন বা ভৌতিক ঘরানার অন্য কোনো বিষয়ের ওপর আরেকটি গল্প তৈরি করে দিই?

Comments